আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম আরো ঊর্ধ্বমুখী হয়ে উঠছে। গতকাল স্পট মার্কেটে মূল্যবান ধাতুটির দাম প্রথমবারের মতো আউন্সপ্রতি ৪ হাজার ৩০০ ডলার ছাড়িয়েছে। সপ্তাহজুড়ে স্বর্ণের মূল্য বেড়েছে প্রায় ৮ দশমিক ৬ শতাংশ, যা গত ১৭ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ সাপ্তাহিক দরবৃদ্ধি। খবর রয়টার্স।
স্পট মার্কেটে গতকাল স্বর্ণের দাম ছিল আউন্সপ্রতি ৪ হাজার ৩৫৯ ডলার ৩১ সেন্ট, যা আগের দিনের তুলনায় দশমিক ৮ শতাংশ বেশি। এদিন লেনদেনের এক পর্যায়ে মূল্যবান ধাতুটির দাম আউন্সপ্রতি সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৩৭৮ ডলার ৬৯ সেন্টে পৌঁছে। এছাড়া এ সময় ডিসেম্বরে সরবরাহের চুক্তিতে ফিউচার মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ১ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ৩৭২ ডলার ১০ সেন্টে লেনদেন হয়।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য উত্তেজনা ও মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) সুদহার কমানোর প্রত্যাশা স্বর্ণের দাম বাড়ার পেছনে ভূমিকা রাখছে।
চলতি বছরে এখন পর্যন্ত স্বর্ণের দাম বেড়েছে ৬৫ শতাংশেরও বেশি। এ বিষয়ে কেসিএম ট্রেডের প্রধান বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, ‘বর্তমান ঊর্ধ্বমুখিতা বজায় থাকলে স্বর্ণের দাম আউন্সপ্রতি ৪ হাজার ৫০০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে। তবে তা নির্ভর করবে যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য উত্তেজনা ও মার্কিন সরকারি কার্যক্রম স্থগিত থাকার (শাটডাউন) আশঙ্কা কতদিন টিকে থাকে তার ওপর।’
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে চীনের নতুন অভিযোগ, দুষ্প্রাপ্য খনিজের রফতানি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ইচ্ছাকৃতভাবে বাজারে আতঙ্ক তৈরি করছে। একই সঙ্গে বেইজিং রফতানি নিয়ন্ত্রণ প্রত্যাহারের আহ্বানও প্রত্যাখ্যান করেছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের অন্যতম গভর্নর ক্রিস্টোফার ওয়ালার শ্রমবাজারের দুর্বলতার কারণে আরেক দফা সুদহার কমানোর পক্ষে মত দিয়েছেন। বিনিয়োগকারীদের ধারণা, ২৯-৩০ অক্টোবরের বৈঠকে ফেডারেল রিজার্ভ ২৫ বেসিস পয়েন্ট হারে সুদহার কমাতে পারে। এছাড়া ডিসেম্বরেও আরেকবার সুদহার কমানোর সম্ভাবনা আছে।
অন্যদিকে গতকাল বৈশ্বিক শেয়ারবাজারও ছিল নিম্নমুখী প্রবণতায়। যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক ব্যাংকগুলোর দুর্বলতার লক্ষণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক তৈরি করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ওয়াটারার বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক ব্যাংকগুলোর ঋণসংকট পুনরায় শুরু হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে স্বর্ণের চাহিদা আরো বেড়েছে।’
এদিকে স্বর্ণের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবে রুপার দামও উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে। গতকাল স্পট মার্কেটে ধাতুটির দাম দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে আউন্সপ্রতি ৫৪ ডলার ২৬ সেন্টে দাঁড়িয়েছে। সপ্তাহজুড়ে রুপার বাজারদর বেড়েছে প্রায় ৮ শতাংশ। এদিন লেনদেনের এক পর্যায়ে ধাতুটির দাম আউন্সপ্রতি রেকর্ড ৫৪ ডলার ৩৫ সেন্টে পৌঁছে।
স্পট মার্কেটে গতকাল প্লাটিনামের দাম দশমিক ৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্সের মূল্য দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৬৯৯ ডলার ৪৫ সেন্টে। এ সময় প্যালাডিয়ামের দাম দশমিক ২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্সের মূল্য হয়েছে ১ হাজার ৬১১ ডলার ২৪ সেন্ট।